সোমবার, ২৫ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগকর্মী তানিম খুনে নেতার কাছে কর্মীর খোলা চিঠি

সুরমা নিউজ ডেস্ক :
গত ৭ জানুয়ারি টিলাগড়ে দলীয় কোন্দলে খুন হন সিলেট সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র ও ছাত্রলীগকর্মী তানিম খান। হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২৯জনের নাম উল্লেখ করে শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত তানিমের বন্ধু এমসি কলেজের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন রাহী। মামলার প্রায় সকল আসামি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের অনুসারী বলে জানা গেছে। ওই মামলার আসামীদের একজন কাউসার জামাল। গত শুক্রবার রাতে এক নেতাকে রাজনৈতিক গুরু সম্বোধন করে তার ফেসবুক একাউন্টে একটি খোলা চিঠি পোস্ট করেন। পাঠকদের জন্য কাউসার জামালের চিঠিটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-

বরাবর,
শিষ্য গড়ার সুনিপন কারিগর সমীপেষু গোপাল টিলা, সিলেট।

বিষয়: কোন অভিযোগ নয় বিদীর্ণ কিছু ক্ষোভ।

জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা দুই ভাই দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি আপনাকে কম বেশি অনেক কিছু দিয়েছি। বিনিময়ে তেমন কিছু চাইনি পাইওনি। তবে অনেক সময় অনেক যন্ত্রণা দিয়েছি, এ কথা অকপটে স্বীকার করছি। যার ধরুন আজ এক ভাই চৌদ্দ শিকে বন্দি আর আরেক ভাই ফেরারী। কিন্তু এমন কোন ক্ষতি করিনি যে আমার পরিবারকে আজকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করলেন। আমার অফিসিয়াল ক্যারিয়ার আজ পদ্মা সেতুর মতো অনিশ্চিত হয়ে গেছে। তাতেও কোন ক্ষোভ নাই।

তবে হে গুরু মা বাবার কাছে লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছিনা। বার বার দুই ভাইকে খোঁটা দিচ্ছেন যার নাম ধরে সকাল বিকাল এতো জিকির পড়তা আজ তারা কই? কেন সাহায্যে আসছেনা? সবচেয়ে বেশি লজ্জায় পড়েছে ক্রেইজিটা! কিন্তু মুখ ফোটে বলতে পারছেনা যার নামে জিকির পড়েছি তিনিই তো আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন মাথা কিছুটা ফ্রেশ করার জন্য। আমিও বলতে পারছিনা ভয়ে, মায়ের মন ত বলা যায়না শুনে যদি চোখ থেকে অতিরিক্ত দূ ফোটা জ্বল গড়ে পড়ে, যদি গুরুর কোন অমঙ্গল হয়? তবে সুন্দর করে ইন্ডিয়ান গ্যাংষ্টার সিনেমার কাহিনী দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছি। তারপরও ঘুরেফিরে একি প্রশ্ন কিন্তু কেন? এই কেন এর জবাব কারো কাছে নাই, আমি কোথা থেকে দিবো!! হে গুরু জানি আপনি যেমন রাগী তেমন মমতাময়ী। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের চাপে এবং কুটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে আমাকেও শিক্ষা দিচ্ছেন।

তবে এইভাবে শিক্ষাটা না দিলেও হতো। যাইহোক নামের লিষ্ট দেখে মনে প্রশ্ন জাগছে এইটা কি মামলা দেওয়া হইছে না কমিটি দেওয়া হয়েছে? কমিটি দেওয়ার সময় যেমন বিভিন্ন নেতার কাছ থেকে চিরকুটে রিকোয়েস্ট আসে মামলায় ও দেখেছি একি নিয়ম রক্ষা করা হইছে। কমিটিতে যেমন ত্যাগী নেতারা সব সময় বাদ পড়ে মামলাতেও দেখি মূল আসামীরা বাদ পড়ছে। আফসোস জন্মেছি এমন এক দেশে যেখানে জীবিতদের চাইতে মৃতদের নিয়ে বেশি রাজনীতি চলে। কষ্ট লাগে গুরু জীবিত তানিম পরম স্নেহের ছিলো কিন্তু মৃত তানিম আজ বেশ ভয়ংকর হয়ে গেল। হে গুরু সত্য মিথ্যা ত আমরা সবাই জানি তবে কেন আজ মিথ্যেকে আঁকড়ে ধরে বেচে থাকার এই নির্লজ্জ চেষ্টা? জবাব চাইনা। তবে মেনে নিতে পারছিনা। রাজনীতি ত মানুষ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য করে, কিন্তু ডাইরেক্ট এইভাবে বুকে ছুরি মারাকে কি রাজনীতি বলে? হে গুরু এই রাজনীতির কারণে তানিম মিয়াদ মাসুম ও পলাশ আজ কবরে, ডায়মন্ড, জাকির, আবিদ সহ নাম না জানা আরো অনেক জেলে। আমার মতো নিরপরাধ আরো কত মানুষ প্রতি হিংসার কবলে পড়ে ফেরারী জীবন কাটাচ্ছে। তাতেও কোন ক্ষোভ নাই।

আমার সকল ক্ষোভ আপনার আদলে থাকা কিছু বেয়াদ্দবদের আচার আচরণে। খুব গায়ে লাগে। এতো ক্লান্তির মাঝেও চোখে ঘুম লাগেনা। রাগে দুঃখে মগজ তরতর করে ক্ষেপে উঠে। সকাল বিকাল দুইটা করে 10mg পাওয়ারের এনজেন্টিনা ট্যাবলেট খাই যাতে মাথা ঠান্ডা থাকে। দোয়া করবেন জীবন কারো সাথে বেয়াদবী করার আগে যেন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাই। লেখায় কোন ভুলত্রুটি বা কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। যে ভাষায় কথা বলে আজ খুনি হলাম সেই ভাষায় আপনাকে একটা দরখাস্ত না লিখে কোনভাবে শান্তি পাচ্ছিলাম না। তাই লিখতে বাধ্য হলাম। এবং আপনার প্রতি এটাই প্রথম ও শেষ চিঠি। আবারো বিনয়ের সঙ্গে অনাকাঙ্খিত ভুল বেয়াদবীর জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। এবং উল্লেখিত ঐ বেয়াদ্দবগুলির শিষ্টাচার বহির্ভূত চরম বেয়াদবীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। অতএব সবিনয় প্রার্থনা এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আপনার যেন মর্জি হয়।

-বিনীত
আপনার একান্ত বাধ্যগত
কাওছার জামাল

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!