বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটে দেশের ৩য় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা, চালু হচ্ছে সীমিত জনবল নিয়ে  » «   ছাত্রলীগকর্মী তানিম হত্যা : আসামী ডায়মন্ড ও রুহেল ৫ দিনের রিমান্ডে  » «   জামেয়া গহরপুর মাদ্রাসার ৬১ তম বার্ষিক মাহফিল আজ  » «   সিলেটে অস্ত্রসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   কার্ডিফের মতো সিলেট গড়তে চাই : মেয়র আরিফ  » «   সুনামগঞ্জে বোরো আবাদ : কৃষকদের চরম হতাশা, লক্ষ্যমাত্রা সোয়া ২ লাখ হেক্টর জমি  » «   সিলেটে পাথর কোয়ারীতে অভিযান : ১৫টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস  » «   সিলেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ওসমানী স্মৃতি পরিষদের শীতবস্ত্র বিতরণ  » «   ওসমানীনগরে ইলিয়াস আলীর জন্য বিএনপি নেতা ফারুকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ  » «  

জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী শেরপুর মাছের মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট-মৌলভীবাজার সীমান্তে গতকাল শুক্রবার শুরু হওয়া শেরপুর মাছের জমে উঠেছে। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতি বছর পৌষসংক্রান্তির দুদিন আগে এ মেলা শুরু হয়ে শেষ হয় পৌষসংক্রান্তির দিন ভোরে। মাছের মেলা এখন সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

শতাব্দী প্রাচীন এ মেলা আগে মনুমুখ বাজারে মনু নদীর তীরে বসত। নদীভাঙন ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কালের আবর্তে তা এখন শেরপুরের ব্রাহ্মণ গ্রামের পাশে কুশিয়ারা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়। তবে একদিনের মাছের মেলা বর্তমানে সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়ে তিন দিনে বর্ধিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার শুরু হওয়া মাছের মেলা শেষ হবে আগামীকাল  (রবিবার) ভোরে।

শেরপুর মাছের মেলায় বড় বড় মাছ প্রদর্শনী ও বিক্রি হয়। সুরমা-কুশিয়ারা-মনু নদীসহ বিভিন্ন হাওরের বড় মাছসহ বিলুপ্ত অনেক মাছ এ মেলায় দেখা যায়। পৌষপার্বণে প্রতিটি হিন্দু পরিবার এ মেলা থেকে বড় বড় মাছ কেনে। এ ছাড়া হিন্দু-মুসলিম একে অন্যকে মেলা থেকে মাছ কিনে উপহার দেন।

গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সহস্রাধিক দোকানে মাছের পাশাপাশি নানা রকমের গৃহস্থালি সামগ্রী শোভা পাচ্ছে। কাঠ-স্টিলের তৈরি আসবাব, দা, খুন্তি, শাবল, কাপড়, ছোটদের খেলনা, শামুকের তৈরি অলঙ্কার, মাটির তৈরি হাড়িপাতিল, বিভিন্ন প্রকার ইলেক্ট্রনিকসসামগ্রী এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীসহ নানা রকমের জিনিসপত্রে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। রয়েছে অসংখ্য খাদ্যের দোকানও। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক মন্দাভাব থাকা সত্ত্বেও প্রথম দিনে বিক্রি অনেক ভালো।

মেলায় দেশি প্রজাতির রুই, বোয়াল, আইড়, ঘাগট, মৃগেল, চিতল, বাউশ, কালবাউশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রদর্শন করছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মাছ বিক্রেতা সুধীন বাবু জানান, মাছ ব্যবসা এখনো সম্পূর্ণ জমে ওঠেনি। যে সংক্রান্তি উপলক্ষে মানুষজন মাছ কিনবেন তার একদিন বাকি। এখন সৌখিনরা মাছ কিনছেন।

প্রকৃত ক্রেতা আসবে আজ। বিনোদ জানান, মাছের দাম এবার গতবারের চেয়ে কম হবে। পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। তাই এখান থেকে কম মূল্যেই মাছ কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

মেলায় দোকান দিতে আসা ঢাকার খেলনা ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, স্টল নিয়েছি। বিক্রি খারাপ নয়। তবে জায়গা ভাড়া, বাজার রেন্টসহ বিভিন্ন প্রকার খরচে লাভের অংশ নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। কাপড় ব্যবসায়ী আবদুল হক বলেন, প্রতি বছরই আমি মেলায় স্টল সাজাই। এবার দিয়েছি শীত কাপড়ের স্টল। প্রথম দিনে লোক সমাগম দেখে ধারণা করছি বিক্রি খারাপ হবে না।

চায়ের দোকানি বজলু মিয়া বলেন, কিছুটা শখের বশে দোকান দিয়েছি। দেখি কী হয়! আশা করছি ব্যবসা জমবে। প্রথমদিনের বিক্রি খারাপ না।

স্থানীয় খলিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অরবিন্দু পোদ্দার বাচ্চু সুরমা নিউজকে জানান, ঐতিহ্যবাহী এ মেলার পরিবেশ সুন্দর রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেলায় জুয়াসহ অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসন ও এলাকার সচেতন মহল এক সঙ্গে কাজ করছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ