শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

আসছেন প্রধানমন্ত্রী : আশায় সিলেটবাসী, যা বললেন আ’লীগ-বিএনপির নেতারা…

সুরমা নিউজ:
শুরু হয়েছে ক্ষণ গণনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট আসছেন। তার আসার খবরে আশায় বুক বাঁধছেন সিলেটবাসী। দলীয় নেতারা বলছেন, সিলেটের প্রতি বঙ্গবন্ধুকন্যার আন্তরিকতার অভাব নেই, কোনো কিছু চাওয়ার আগেই তিনি সিলেটবাসীর প্রয়োজন মেটান। এতোকিছুর পরও সিলেটবাসীর প্রত্যাশার কমতি নেই। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে অন্তত ১৫টি প্রাপ্তির আশাবাদ করেছেন সিলেটের রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। প্রধানমন্ত্রী আসলে কিছু ঘোষণা দেবেন-যা সিলেটবাসী হৃদয়ে লালন করবেন-এমন প্রত্যাশা সকলের মাঝে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফর ঘিরে এমন আশার সঞ্চার হয়েছে সিলেটের মানুষের মাঝে। আগামী ৩০ জানুয়ারি তিনি সিলেট আসছেন। ওইদিন হজরত শাহজালাল ও শাহপরান (র.) মাজার জিয়ারত করবেন শেখ হাসিনা। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন এবং বেলা ২টায় আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে জনসভায় বক্তব্যও রাখবেন।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষ্যে জনসভার সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে ওইদিন ২টার দিকে জনসভা হবে। তবে তা এখনো দলীয়ভাবে চূড়ান্ত হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে সিলেটবাসী তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে চাওয়া-পাওয়ার বিভিন্ন হিসাব মেলাতে এখন ব্যস্ত তারা।
সিলেট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই সিলেটের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই চাওয়ার আগেই পাওয়া যাচ্ছে অনেক কিছু। তারপরও দীর্ঘমেয়াদি কিছু প্রত্যাশা তো থেকেই যায়।
রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মুখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিলেটবাসীর অনেক প্রত্যাশার কথা ওঠে এসেছে।
প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে, সুরমা-কুশিয়ারা নদী খনন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ, রেলপথের সংস্কারসহ ডাবল লাইন ও ঢাকা-সিলেট বিরতিহীন স্পেশাল ট্রেন চালু, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে রূপান্তর, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা, স্পেশাল ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা, চিড়িয়াখানার উদ্বোধন, সিলেটের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ, বিশেষ শিল্পাঞ্চল গঠন, টিপাইমুখসহ সব অভিন্ন নদীতে বাঁধ নির্মাণ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা, সিলেটের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতকরণ, হাইকোর্টের বেঞ্চ চালু।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবতা এমনই; আমরা কখনই সিলেটের ব্যাপারে তাঁর কাছে কিছু চাইতে হয়নি। তিনি সব সময় সিলেটের ব্যাপারকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সিলেট আসবেন এ অঞ্চলের মানুষ তাঁর কথা শোনবেন, আমরা এতেই অনেক খুশি। লুৎফুর রহমান বলেন, ওইদিন প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন, কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। শাহজালাল (র.) ও শাহপরান (র.) মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর ২টায় আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে ভাষণ দিবেন।’
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘প্রথমেই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। সিলেটের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন প্রয়োজন। শহর থেকে গ্রাম সকল রাস্তারই আজ এক অবস্থা। সিলেটে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাজেটের বড় একটি অংশ সিলেটের প্রবাসীদের কাছ থেকে আসা রেমিটেন্স। অথচ সিলেটের ব্যবসার সুবিধাজনক অঞ্চল তৈরি হয়নি। বার বার কথার ফুলঝুরি ছোটানো হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত, ওসমানী হাসপাতালে শয্যা বাড়ানো আজ সময়ের দাবি। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে।’
সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইইউ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘একজন আইনজীবী হিসেবে আমার প্রথম দাবি বাংলাদেশ সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সিলেট হাইকোর্টে একটি সার্কিট বেঞ্চ চালু করা। এছাড়া সিলেটকে অর্থনৈতিক জোন করা এবং বন্ধ থাকা কলখারখানা চালু করা। বন্ধ কলকারখানা চালু হলে এই অঞ্চলের অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও জানান তিনি।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে সিলেটের উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়ে ছিলেন। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর নিজের প্রত্যাশা। ফরুক মাহমুদ বলেন, আমলসীদ থেকে সুরমা খনন করতে হবে। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদী খনন, সিলেটে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ওসমানী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করাসহ সিলেটের অনেক দাবি রয়েছে। যেগুলো পূরণ করা অবশ্যই সময়ের দাবি।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!