বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
টাঙ্গাইলের কিশোরীকে বিশ্বনাথে এনে ধর্ষণের পর হত্যা  » «   থানা পুলিশের প্রেসব্রিফিং বর্জন করল বিশ্বনাথ সাংবাদিক ইউনিয়ন  » «   ‘ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর অনুভূতি’ রচনা প্রতিযোগিতায় ওসমানীনগরের রিমা প্রথম  » «   সন্ধান মিলেছে নিখোঁজ এমসি কলেজ শিক্ষার্থী সাজ্জাদের  » «   সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার, থানায় জিডি  » «   কমলগঞ্জে বিশ্বকর্মা পুজায় দুষ্কৃতিকারীর হামলায় মহিলাসহ আহত ৬  » «   নবীগঞ্জে কুশিয়ারা বুকে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আতঙ্ক ‘ভূতুড়ে বিল’  » «   বিশ্বনাথে ১২ দিনেই জমি নামজারির সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা  » «   মৌলভীবাজারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক রাজাকার আনিছের মৃত্যু  » «  

উত্তপ্ত সিলেট

ওয়েছ খছরু:
সিলেটে বেপরোয়া আজাদ গ্রুপের হাতে নিহত হলেন ছাত্রলীগের আরেক কর্মী তানিম খান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন নগরীর টিলাগড়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে তানিমকে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেট মহানগরী। ছাত্রলীগের রঞ্জিত গ্রুপের কর্মীরা মধ্যরাত পর্যন্ত নগরীর ব্যস্ততম চৌহাট্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। আর গতকাল সকাল হতেই তারা অবস্থান নেন এমসি ও সরকারি কলেজের ফটকে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়ে তারা দুটি ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় সিলেট এমসি কলেজের নিয়মিত সব পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে রাখে তানিমের বন্ধুরা। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এদিকে খুনের পর রাতভর টিলাগড় এলাকায় চিরুনী অভিযান চালায় পুলিশ। খুনের ঘটনায় জড়িত কিলার ডায়মন্ডকে তারা গ্রেপ্তার করেছে।
তানিম খান। সিলেট সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা। টিলাগড়ের রঞ্জিত গ্রুপ ছাত্রলীগের মধ্যম সারির নেতা তিনি। পড়তেন সরকারি কলেজের বিএ পাস কোর্সে। বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার নিজ বুরুঙ্গা গ্রামে। সিলেটের ইসলামপুরের একটি ছাত্রমেসে বসবাস করছিল। বন্ধুদের নিয়ে রোববার রাতে টিলাগড়ের রাজমহল হোটেলে কফি পান করার সময় আজাদ বলয়ের রায়হান গ্রুপের কর্মী সাদিকুর রহমান আজলা ও ডায়মন্ডের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র যুবক তানিমের ওপর হামলা চালায়। তারা ছুরি, রামদা দিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে চলে যায়। রক্তাক্ত তানিমের দেহ পড়ে থাকে রাস্তার ওপর। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিয়ে যান সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কর্তব্যরত ডাক্তার তানিমকে মৃত ঘোষণা করেন। তানিমের মৃত্যুর খবর শোনামাত্র শত শত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ভিড় করেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। তারা এ সময় তানিমের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের সান্ত্বনা দিতে সেখানে সিনিয়র নেতারা ছুটে যান। রাতে হাসপাতালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরন মাহমুদ নীপু জানিয়েছেন, টিলাগড়ে একই গ্রুপের কর্মীদের হাতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা খুন হচ্ছে। এ নিয়ে গত চার মাসে ৩টি লাশ পড়লো। তিনি এ জন্য সিলেটের শাহপরান থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেন। তানিমের সহকর্মী ছাত্রলীগ নেতা আলতাফ হোসেন মুরাদ বলেন, গত ৪ই জানুয়ারি এমসি কলেজে আয়োজিত ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পণ্ড করার চেষ্টা চালায় রায়হান গ্রুপের কর্মীরা। সেদিন ব্যর্থ হওয়ায় এর জের ধরেই তারা তানিমের ওপর হামলা করে তাকে খুন করেছে। এদিকে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে থাকা ছাত্রলীগের কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল শুরু করেন। তারা মিছিল নিয়ে চলে আসেন নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে। সেখানে এসে তারা বন্দরবাজার-আম্বরখানা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। পরে পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস প্রদান করলে তারা চলে যায়। সকাল থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠে সিলেটের টিলাগড় এলাকা। ছাত্রলীগ কর্মীরা এমসি কলেজের ক্যাম্পাসে লাশ নিয়ে নিহত তানিমের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়। এ সময় তারা সিলেট এমসি কলেজ ও সরকারি কলেজের ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখে। ধর্মঘটের কারণে সকালে এমসি কলেজের সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সিলেট এমসি কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ জানিয়েছেন, উত্তেজনার আশঙ্কায় তারা বিভাগীয় পরীক্ষা স্থগিত করেছেন। এ ছাড়া কোনো ক্লাসও নেয়া হয়নি। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগ কর্মীদের ধর্মঘটের কারণে সরকারি কলেজে কোনো ক্লাস হয়নি। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে গেলেও উত্তেজনা থাকায় তারা চলে যান। দুটি কলেজের ফটকে তালা ঝোলানোর পর ছাত্রলীগের রঞ্জিত গ্রুপের কর্মীরা সিলেট-তামাবিল সড়কে অবস্থান নেয়। ফলে সকাল ১০টা থেকে সিলেট-তামাবিল সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। টিলাগড় পয়েন্ট থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত এলাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ ছাড়াও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেয়। তারা আজাদ গ্রুপের কর্মীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে যান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব। তিনি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস প্রদান করলে ছাত্ররা শান্ত হয়ে ব্যারিকেড তুলে নেয়। এ ফলে দুই ঘণ্টা পর সিলেট-তামাবিল সড়কে যান চলাচল শুরু করে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে রোববার রাত থেকে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এরই মধ্যে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি জানান, ৪ঠা জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে টিলাগড় এলাকায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছিল। এই সংঘর্ষের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, নিহত তানিম খানের লাশের ময়নাতদন্ত গতকাল দুপুরে ওসমানী মেডিকেলের মর্গে সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে গ্রামের বাড়ি ওসমানীনগরের নিজ বুরুঙ্গা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই লাশ দাফন করা হয়। সিলেটের শাহপরান থানার ওসি আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, তানিম খুনের ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এর মধ্যে চার জনকে তারা আটক করেছে। চার জনের মধ্যে ডায়মন্ড খুনের ঘটনায় জড়িত বলে তারা জানতে পেরেছেন। পরিবার থেকে মামলা দিলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!