বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটে গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা : প্রাণ গেল ২ জনের  » «   সিলেটে দেশের ৩য় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা, চালু হচ্ছে সীমিত জনবল নিয়ে  » «   ছাত্রলীগকর্মী তানিম হত্যা : আসামী ডায়মন্ড ও রুহেল ৫ দিনের রিমান্ডে  » «   জামেয়া গহরপুর মাদ্রাসার ৬১ তম বার্ষিক মাহফিল আজ  » «   সিলেটে অস্ত্রসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   কার্ডিফের মতো সিলেট গড়তে চাই : মেয়র আরিফ  » «   সুনামগঞ্জে বোরো আবাদ : কৃষকদের চরম হতাশা, লক্ষ্যমাত্রা সোয়া ২ লাখ হেক্টর জমি  » «   সিলেটে পাথর কোয়ারীতে অভিযান : ১৫টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস  » «   সিলেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ওসমানী স্মৃতি পরিষদের শীতবস্ত্র বিতরণ  » «  

সিলেটে মার্ডার পয়েন্ট টিলাগড় : আজাদ গ্রুপের হাতে ৪ মাসে ৩ লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের টিলাগড় পয়েন্ট বর্তমানে মার্ডার পয়েন্ট নামে খ্যাত। ছাত্ররাজনীতির জন্য‘ডেঞ্জার জোন’ হয়ে দাড়িয়েছে সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকা। চার মাসে টিলাগড়কেন্দ্রীক ছাত্রলীগের গ্রুপিং রাজনীতির বলি হতে হয়েছে তিন জন ছাত্রলীগ কর্মীকে। কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ গ্রুপের অনুসারিদের হাতে বিগত ৪ মাসের মধ্যে ৩জন খুনের ঘটনা ঘটেছে। খুন হওয়া ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন জাকারিয়া মোহাম্মদ মাসুম, ওমর আহমদ মিয়াদ ও তানিম খান।
রোববার (৭ জানুয়ারি) সর্বশেষ এই মৃত্যুর মিছিলে লাশ হন ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খান। রাত পৌনে নয়টার দিকে নগরীর টিলাগড় এলাকায় আজাদ গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিলেট সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তানিম টিলাগড় এলাকায় ছাত্রলীগের রঞ্জিত গ্রুপের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে রোববার রাতে তানিমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর সহপাঠীরা জানিয়েছেন। পরে সেখান থেকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরে একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত তানিম খানের গ্রামের বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের নিজ বুরুঙ্গা গ্রামে। তার বাবার নাম ইসরাইল খান। সে টিলাগড়ে একটি মেসে থাকত।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ছাত্রলীগের হিরন মাহমুদ নিপু গ্রুপের সক্রিয় কর্মী এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ওমর আহমদ মিয়াদকে। প্রকাশ্য দিবালোকে টিলাগড় মসজিদ সংলগ্ন কাউন্সিলর আজাদের অফিসের সামনে, আজাদ গ্রুপের ছাত্রলীগের ক্যাডাররা তাঁকে খুন করে। নিহত মিয়াদ সিলেট এমসি কলেজে বিএসএস এবং লিডিং ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ের ছাত্র ছিলেন। ওই দিন বেলা ৩টার দিকে প্রকাশ্যেই ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় তোফায়েল নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। মিয়াদের বাবার করা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরীকে প্রধান আসামী করা হয়। এরপর কেন্দ্রের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বাতিল করা হয় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকালে শিবগঞ্জে জাকারিয়া অহমদ মাসুমের উপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। আগের দিন রাতে নগরীর সোবহানীঘাটে আলী আহমদ মাহিন নামের এক ছাত্রলীগকর্মীকে মারধর করে মাসুমসহ ছাত্রলীগের আরো কয়েকজন কর্মী। এর জের ধরেই পরেরদিন হামলায় খুন হন মাসুম। হামলাকারী মাহিন ও তার সঙ্গীরা টিলাগড়কেন্দ্রীক ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত। মাহিন ও তার সঙ্গীরা মাসুমকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ফেলে গিয়েছিল। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়। নিহত মাসুম সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জের মাসুক মিয়ার ছেলে। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সমর্থিত সুরমা গ্রুপের কর্মী। হামলাকারী মাহিন ছাত্রলীগের কাউন্সিলর আজাদ ও টিটু-ডায়মন্ড গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে।
এ তিন খুনই শুধু নয়। এর আগেও প্রায় ৭ বছর আগে ২০১০ সালের ১২ জুলাই অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে টিলাগড়ে খুন হন এমসি কলেজের গণিত বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী উদয়েন্দু সিংহ পলাশ। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ৮ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরও ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন পলাশের বাবা বীরেশ্বর সিংহ। এ মামলায় মূল অভিযুক্তদের কয়েকজনকে বাদ দিয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কিত পলাশের সহপাঠী ও সহকর্মীরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ