রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ওসমানীনগরে হুমকীর মুখে কৃষি ব্যবস্থাপনা

আনোয়ার হোসেন আনা:
সিলেটের ওসমানীনগরের কৃষির ভবিষ্যৎ হুমকীর মুখে। খননের অভাব এবং মানুষের সর্বগ্রাসী ক্ষুধার কাছে নদী-নালা ও খাল-বিলের অপমৃত্যুর কারণে সর্বত্রই বন্ধ হয়ে গেছে  জল প্রবাহের পথ।

এতে রবি মৌসুমে পানি সংকট আর রূপা আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি পড়ে থাকে এলাকার অধিকাংশ কৃষি জমি। মরে যাওয়া নদী-নালা ও খাল-বিল গুলো উদ্ধার করে খননের মাধ্যমে জল প্রবাহের পথ সুগম করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষি জমি গুলো স্থায়ী পতিত জমিতে পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ওসমানীনগরে এক সময় ছিল অসংখ্য নদী-নালা ও খাল-বিল। বিপুল সংখ্যক পানির প্রাকৃতিক উৎসের কারণে জমির উর্বরা শক্তি ভাল থাকায় সর্বত্রই ভাল ফলন ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং মানুষের সর্বগ্রাসী ক্ষুধার কাছে কাছে পানি ধারণ ও নিষ্কাশনের মাধ্যম নদী-নালা ও খাল-বিল গুলো অস্তিত্ব হারাতে শুরু করলে ক্রমশ ছোট হতে থাকে কৃষির পরিধি। বুড়ি ও রত্মা নদীসহ অসংখ্য খালের অস্তিত্ব আজ একেবারে বিলীন।

অস্তিত্বহীন এসব নদী ও খাল যে যার মত করে দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে যেসব নদী ও খাল রয়েছে সেগুলোও খননের অভাবে এবং দখলের কারণে  জল প্রবাহের পথ প্রায় বন্ধ  হওয়ার উপক্রম। এলাকার কৃষির সেঁচ ব্যবস্থা পানির প্রাকৃতিক উৎস গুলো কোমায় থাকায় রবি মৌসুমে দেখা দেয় পানি সংকট। অপর দিকে রূপা আমন মৌসুমে জল প্রবাহের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সর্বত্র দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। এমন অবস্থায় কৃষকরা পানি সেঁচ ও জলাবদ্ধতার কারণে ফসল চাষাবাদ করতে পারেন না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নারকিলা নদী, দাশপাড়ার খাল (রত্মা নদী), মিলিটারী খাল, বড়ভাগা খাল, আর্মিদিং খাল, বুড়িবরাক, দয়ালং খাল, নষ্টগাং ও আলিকা খালসহ বিভিন্ন খাল যুগ যুগ খননহীন পড়ে থাকায় প্রায় মরে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ভরাট হয়ে যাওয়া নদী ও খাল দখল হয়ে যাওয়ায় তাদের অস্তিত্ব বিলিন হওয়ার পথে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং খননের মাধ্যমে জলপ্রবাহের পথ সুগম করার মাধ্যমে এলাকার কৃষি ব্যবস্থাপনাকে সচল রাখা সম্ভব।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও রুনিয়া হাউনিয়া রোবো ফসল রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক আবদুল হাই মোশাহিদ বলেন, অনেক নদী-নালা ও খাল-বিল খননের অভাবে  ভরাট এবং দখল হয়ে যাওয়ায় এলাকার কৃষি ব্যবস্থা এখন হুমকীর মুখে। অনেক নদী ও খালের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে গেছে। যেসব নদী-নালা ও খাল-বিল রয়েছে সেগুলো খননের মাধ্যমে জল সংরক্ষণ ও জল প্রবাহের পথ সুগম করা না হলে ভবিষ্যতে এলাকার কৃষি জমিগুলো স্থায়ী পতিত জমিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক বলেন, এলাকায় একসময় সর্বত্রই নৌকা চলাচলের পথ ছিল কিন্তু আজ পানি যাওয়ারও পথ নেই। নদী-নালা ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষি জমিগুলো অনাবাদী জমিতে পরিণত হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!