বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
বন্যার্তদের পাশে দাড়াতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   উন্নয়নের আলোকচিত্রে ঠাসা সিলেটের অলিগলি  » «   সিলেটসহ তিন সিটিতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ কাল  » «   কোম্পানীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি কারাগারে  » «   ওসমানীনগরে ভাসমান লাশ উদ্ধার  » «   নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ২জন নিহত  » «   সিলেটে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি  » «   সুনাই’র দু-কুল ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি : বিয়ানীবাজারে প্রতিদিনই নতুন এলাকা প্লাবিত  » «   বিয়ানীবাজারের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   সিলেটে খালেদা জিয়ার চাইতে এরশাদ সাহেব বেশী জনপ্রিয় : অর্থমন্ত্রী  » «  

বছরের প্রথম দিনে মায়ের মুখ দেখা

মোঃ গোলাম মোস্তফা দুঃখু: আমি সবসময় একটু আলাদাভাবে থাকতে পছন্দ করি, বলতে পারেন আড্ডা বন্ধু বান্ধবদের সাথে কোথাও গুড়তে যাওয়া এসকল আমার পছন্দ নয়। তবে আমি যখন ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ জাই, আমার কলেজ জীবনের বন্ধুরা আমার বাসায় চলে আসে। বন্ধুদের একটি গুণ খুব ভালো ওরা কখনো আমার সাথে রাগ করে না, কারন ওরা জানে আমি নিরবতা খুব পছন্দ করি হয়তো এই কারনে তাদের সাথে আড্ডা দেওয়া হয়ে উঠে না। অনেক দিন পর দেখা রুবেলের সাথে সে বিসিএস পরিক্ষা দিলো প্রিলিমানারি, ও আসার পর থেকে পরিক্ষা নিয়ে কথা হচ্ছে। রুবেল কে চা দিয়ে আমি পাশের রুম থেকে একটি চেয়ার এনে রুবেলের পাশে বসে বিসিএস এর প্রশ্ন দেখছিলাম, কিছুক্ষণ পর দেখি আমার বাসায় এসে হাজির মাহমুদুল, রাসেল, ফয়সাল, ফাহিম, সকল কে এক সাথে দেখে প্রথম চমকে গিয়েছিলাম। কারন কখনো এক সাথে এমন ভাবে দেখা হয়নি, সবাই কে এক সাথে পেয়ে, ভালো লাগার আকাশ জেনো নিজের মাঝে পেয়েছি। সকলে বসে আড্ডা দিচ্ছে আমি সকলের জন্য চা আনতে গেলাম, চা খাওয়ার শেষে রুবেল ফিসফিস করে মাহমুদুল কে কিছু একটা বলছে। যা ওরা আমাকে শুনা চাই না, বেলা বারোটা বাঁজে যখন ফয়াসল  বলছে আজ আমরা গুড়তে যাবো এখনি, আমি কথাটি শুনে রেগে গেলাম মানে কী ?  আমি কোথাও যেতে পারবো না কারন আজ বছরের শেষ দিন, আমাকে বাসায় থাকতে হবে এছাড়াও আমার ব্যক্তিগত কিছু কাজ আছে। ওরা কেউ কিছু মানতে রাজি না, ওদের সকলের এক কথা আজ তোকে আমাদের সাথে ঘুড়তে যেতেই হবে। কোন ভাবে আমি বুঝাতে পারছিলাম না, যে আমি যেতে পারবো না। সকলের কথা মতো ঘুড়তে বের হলাম তখন বিকাল শেষ হয়ে রাত হওয়ার সময়, আমরা কোথায় যাচ্ছি রুবেল, মাহমুদুল, আর মোজাহিদ ছাড়া কেউ জানে না।  কারন তারা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় শর্ত দিয়েছিলো আমরা কোথায় যাচ্ছি জিগেসা করা যাবে না, রাত দশটা বাঁজে তখন একটি বাসায় গেলাম বাসাটি মনে হয় রুবেল বা মাহমুদুলের আত্মীয়র হবে। একজন এসে আমায় জিগেসা করলো কেমন আছো, আমি বললাম ভালো আছি। তবে কন্ঠসুরটি আমার অনেক পরিচিত মনে হচ্ছে, তবে কারেন্ট না থাকার কারনে মুখটি দেখা যাচ্ছিলো না বাতির আলোতে। উনি চলে যাবার পর আমাদের সকল কে সাথে নিয়ে ডাইনিং এ নিয়ে গেলো রুবেল। খাবার খাওয়া শেষে সবাই একটু নিরব হয়ে পরেছে শরীর এর ক্লান্ত চলে এসেছে দেখে মনে হচ্ছে, তবে আমার কিছু ভালো লাগছে না। কারন আর কিছুক্ষণ পরে জীবন থেকে আরেকটি বছর চলে যাবে, এর সাথে যুগ হয়েছে কন্ঠসুরটি কার এত পরিচিত মনে হচ্ছিলো কেনো। কেমন আছো?  যখন জিগেসা করলো,  তখন মনে হচ্ছিলো এত আপন করে আমায় কেউ কখনো বলে নাই। ফয়াল কে বললাম উনি কে ?  সে কোন উওর দেয়নি, রাত তখন এগারোটা আমি বাহিরে এসে বসে আছি, আমার কাছে মনে হচ্ছিলো পিছন থেকে কেউ আমায় দেখছে। তবে পিছনে ফিরে দেখি কেউ নেই তো হয়তো আমার মনের ভূল, বছরের শেষ দিন আমার অনেক কষ্ট হয়। মাকে আমি খুব মিস করি, ১০ বছর ধরে মাকে “মা” বলে ডাকিনী। তবে বছরের শেষ দিন একা একা ঘরে বসে “মা ” কে ডাকি। মায়ের সাথে রাগ করে চলে গিয়েছিলাম দশবছর আগে, সেই দিনটিই ছিলো মাকে আমার শেষ দেখা। এর পর আর মায়ের সাথে দেখা নেয়, তবে এই দশটি বছরে এক মিনিটও মাকে সরণ না করে থাকতে পারিনি। কারন “মা ” আমার জীবনের আকাশ, আমার চোখের আলো হয়ে সে আমার সাথে আছে। আমার সামনে যখন কেউ মা বলে ডাকে তার মাকে তখন খুব রাগ হয়, হঠাত রাসেল পিছন থেকে ডাক দিলো এত রাতে বাহিরে বসে আছিস  কেনো ?  বিতরে আই, চোখের কণায় যে জল জমেছিল নিচের অজান্তে তা মুছে রুমে গেলাম। তখন রাত বাঁজে বারো টা, সবাই চুপ হয়ে বসে আছে। কেউ কোনো কথা বলছে না আমার সাথে, আমি সবাই কে জিগেসা করলাম কি হয়েছে তরা সকলে এত চুপ কেন। “বাবা সজীব ” কে!  কে!  আমায় ডাকছে ” বাবা সজীব বলে, রুবেল কান্না করছে, ফয়সালেও কান্না করছে,  রাসেল বারেন্দায় দাড়িয়ে আছে, ফাহিম অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে সকলের চোখের জল দেখে, ওদের কান্না দেখে আমার চোখ দিয়েও জল আসতে শুরু করেছে।আবার একি ডাক “বাবা সজীব ” আমার কষ্ট আরো বেড়ে গেলো এত সুন্দর করে আমায় কে ডাকছে!  আমি চিত্রকার করে বললাম আপনি কে ?  সামনে আসেন, আমি আপনাকে দেখতে চাই। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, এত সুন্দর করে আমায় বাবা বলে ডাকছেন কেনো। অন্ধকারে আস্তে আস্তে রুমে আসলো, শরীর এর ঘ্রাণটি অনেক পরিচিত। মনে হচ্ছিলো আমার ” মায়ের শরীর এর ঘ্রাণ, ফয়াল বাতি নিয়ে আমার মুখের কাছে আসলো। আমি খাট থেকে নেমে উনার সামনে গেলাম, কাছে যাওয়ার পর মনে হলো আমি আমার মায়ের পাশে দাড়িয়ে আছি। রাসলে বললো আন্টি মুখ থেকে কাপরটি সরান, আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে বুকের ভিতর অনেক কষ্ট হচ্ছে। কাপড় টি সরানোর পর আমি যা দেখলাম, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস “আমার মায়ের মুখ ” ঝুরে চিত্রকারর দিয়ে মায়ের বুকে পড়লাম, মা ওমা তুমি কোথায় থেকে এখানে, মাগো দেখো আমি তোমার ছেলে। মায়ের চোখের জল আমার গালে পড়ছে, আমার কথা বলার সুর হারিয়ে গেছে। মায়ের কান্না আর রুমের সকলের কান্না শব্দে বছরের প্রথম দিনটি হয়ে উঠেছে, মায়ের ভালোবাসার দিন।
লেখক: শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা বিভাগ,পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!