বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
জামেয়া গহরপুর মাদ্রাসার ৬১ তম বার্ষিক মাহফিল আজ  » «   সিলেটে অস্ত্রসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   কার্ডিফের মতো সিলেট গড়তে চাই : মেয়র আরিফ  » «   সুনামগঞ্জে বোরো আবাদ : কৃষকদের চরম হতাশা, লক্ষ্যমাত্রা সোয়া ২ লাখ হেক্টর জমি  » «   সিলেটে পাথর কোয়ারীতে অভিযান : ১৫টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস  » «   সিলেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ওসমানী স্মৃতি পরিষদের শীতবস্ত্র বিতরণ  » «   ওসমানীনগরে ইলিয়াস আলীর জন্য বিএনপি নেতা ফারুকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ  » «   বিশ্বনাথে বিএনপির মিছিলে পুলিশি বাঁধা : পার্টি অফিসে প্রতিবাদ সভা  » «   হবিগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  » «  

আমরা প্রবাসীরা কামলা, আসলেই জাতহীন কামলা !

সারওয়ার চৌধুরী:
নিজের জন্মভূমি , আত্মীয় -স্বজন , পরিচিত পরিবেশ সবকিছু ছেড়ে কত শখের তরেই পরবাসে আমরা কামলাগিরি করি সেটা তো আর কারও চিন্তায় আসার কথা নয় । তবে সহজ উত্তরটা সবারই জানা – আমরা যোগ্যতাহীন , হৃদয়হীন । আর উত্তরটাকে আমি শতভাগ সঠিক বলেই মনে করি । আমরা অবশ্যই যোগ্যতাহীন , কারন আমরা অনিয়মকে নিয়ম বানানোর যোগ্যতা রাখিনা ! আমরা যোগ্যতাহীন কারন আমরা আপনাদের মত দুহাত ভরে ঘুষ নামের বিনিয়োগটা করতে পারিনা বিবেক বন্ধুর দংশনের কারণে । আমরা হৃদয়হীন কারন স্বদেশ স্বজনের ভালবাসাকে পেছনে ফেলে দূর পরবাসে ছুটে যাই তাদের মুখে দুটো অন্ন দেওয়ার তাগিদে । আর কামলা ! হ্যা ,আমরাই সত্যিকারের কামলা । তা নাহলে কিভাবে দিনরাতের ব্যবধান ভুলে মজে থাকি কাজ নামের ঘূর্ণিতে । দিনের শিফটা করি পরিবারের জন্যে আর রাতেরটা আত্মীয় -স্বজন কিংবা আপনাদের অপমান আর অবহেলার শিকার কোন দুর্বলের জন্যে , যে দায়িত্বটুকু পালন করার কথা ছিল আপনাদের ! কেননা আপনাদের দেশে থাকার অর্থের যোগানটা কিন্তু এই সমস্ত মানুষেরাই জোগায় ।
আমরা , এই কামলারাই যখন দেশে যাই , যেতে হয় কারন দেশের প্রতি টানটা আপনাদের চাইতে আমাদের একটু বেশী , তখন আপনারা এয়ারপোর্ট থেকেই শুরু করেন চাওয়া পাওয়ার গাণিতিক হিসেব নিকাশ । এই কামলারা যখন কোন অফিসে যাই ,কোন প্রসাশনিক কাজের প্রয়োজনে , তখন হাজার টাকার কাজটাকে আপনারা লাখের হিসেবে বের করে আনেন — আপনাদের ভেতরে তো বদ্ধমুল ধারণা , আমরা বোকা প্রবাসীরা এগুলো কিছুই বুঝিনা । চির পরিচিত বন্ধুও যখন বিশ্বাসটাকে বন্ধক রেখে প্রবাসীদের সম্পদ আত্মসাতের ফন্দি করে , তখন আমাদের আর করার কিছুই থাকেনা । প্রবাসীদের টাকা আত্মসাৎ করলে কিছুই হবেনা , কেউ জানতে পারবেনা ….
আপনারা যারা জনগণের সেবক , জনগনের সেবা করার জন্যেই আপনাদেরকে সরকারী চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয় , তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েই ভুলে যান জনগনের কথা ! ভুলে যান আপনাদের উপর বর্তিত দায়িত্ব ও কর্তব্য । জনগণের সেবার বদলে নিজেরা চান জনগণই যেন উলটো আপনাদের সেবা করে ।
আপনাদের মত হিংসুটে লোকেরা যখন সরকারী টাকা পয়সা মেরে মুরে সারা পরিবার নিয়ে সরকারী দায়িত্ব পালনের নামে প্রমোদ ভ্রমণে বিদেশের মাটিতে আসেন , তখন তো আমরা , এই প্রবাসীরা আপনাদের দুর্নীতি আর অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরিনা ! বরং স্বদেশের ভাই বলে বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরি । আপনাদের প্রয়োজন হয়না হোটেলে থাকার , প্রয়োজন হয়না রেস্টুরেন্টে নিজের পকেট মানি খরচ করার কিংবা পরিবহন খরচ যোগাবার । আপনারা কিন্তু ঠিকই লম্বা একটা লিস্ট বানিয়ে এই খরচ গুলো সরকার থেকে আদায় করে নেন । বিদেশে এসে শপিং টপিং করে লাগেজ গুলো উপহার নামের প্রবাসীদের দক্ষিণায় ভরাট করে নিয়ে যান । একবার বিদেশ ঘুরে যেতে পারলে আপনাদের ব্যাংক ব্যালেন্স গুলো ফুলে ফেপে পাহাড় হয়ে যায় । যেখানে একজন প্রবাসী দেশ ঘুরে আসলে অন্তত কয়েক বছরের জমানো অর্থ করে নিঃস্ব হয়ে আসে , সেখানে আপনারা একবার বিদেশ আসতে পারলে সারা জীবনের জন্যে ব্যাংক সেভিংসটা নিশ্চিত হয়ে যায় । তারপরও কেন প্রবাসীদের প্রতি আপনাদের এত হিংসাত্বক মনোভাব বরং কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত ছিল যে , আমরা প্রবাসী হওয়ায় আপনাদের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যেমন সহজ হয় তেমনি প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো সহজ হয়ে যায় ।
আমাদের মত কামলাদের কারনেই বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাম , বাংলাদেশীদের নাম বিশ্বস্ততা আর আন্তরিকতার মূর্ত প্রতিক হিসেবে উচ্চারিত হয় । আমরা একটার স্হলে দুটো তিনটা কাজ করি কিন্তু বিশ্বাসহীনতা করিনা , অনিয়ম করিনা । প্রবাসীদের ভালবাসতে না পারেন ঘৃণা করবেন না , আপন করতে না পারেন গালি দেবেননা । গালি যদি দিতেই হয় , তবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বিবেকের সাথে সংলাপ করে নিজে নিজেকেই গালি দেন – যার একান্ত পাওনাদার হলেন আপনি কিংবা আপনাদের মত মুখোশ পরিহিত ছদ্মবেশী , দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী স্বঘোষিত দেশপ্রেমিকরা ।
আমরা কিন্তু আমাদেরকে কামলা বলতে কিংবা ভাবতে লজ্জা বোধ করিনা , আমাদের আয়ের মধ্যে নেই কোন অনিয়ম , দুর্নীতি কিংবা আত্মসাতের দূর্গন্ধ — কিন্তু আপনারা তিন কিংবা চার অংকের আয়ের পরিমাণটাকে পাঁচ কিংবা ছয়ের ঘরে নিয়ে যান কিভাবে ? লজ্জিত হোন নিজের কার্যকলাপের জন্যে , শোধরাবার চেষ্টা করুন নিজেকে আর প্রবাসীদের প্রতি হিংসা বিদ্বেষপুর্ণ মনোভাব পরিত্যাগ করে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করুন এইজন্যে যে , অন্তত নিজ দেশের মধ্যে আপনার জীবন ধারণের একটা ব্যবস্থা হয়েছে ।

লেখকঃ সারওয়ার চৌধুরী,
আমেরিকা প্রবাসী।

(সুরমানিউজ এর পাঠককলামে প্রকাশিত সব লেখা পাঠক কিংবা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় সুরমানিউজ বহন করবে না। সুরমানিউজ এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।)

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ