বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটে দেশের ৩য় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা, চালু হচ্ছে সীমিত জনবল নিয়ে  » «   ছাত্রলীগকর্মী তানিম হত্যা : আসামী ডায়মন্ড ও রুহেল ৫ দিনের রিমান্ডে  » «   জামেয়া গহরপুর মাদ্রাসার ৬১ তম বার্ষিক মাহফিল আজ  » «   সিলেটে অস্ত্রসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   কার্ডিফের মতো সিলেট গড়তে চাই : মেয়র আরিফ  » «   সুনামগঞ্জে বোরো আবাদ : কৃষকদের চরম হতাশা, লক্ষ্যমাত্রা সোয়া ২ লাখ হেক্টর জমি  » «   সিলেটে পাথর কোয়ারীতে অভিযান : ১৫টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস  » «   সিলেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ওসমানী স্মৃতি পরিষদের শীতবস্ত্র বিতরণ  » «   ওসমানীনগরে ইলিয়াস আলীর জন্য বিএনপি নেতা ফারুকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ  » «  

কিভাবে ভিক্ষাবৃত্তির ট্রেনিং নিচ্ছে শিশুরা?

সাজ্জাদ হোসেন ইমন, ঢাকা থেকে:
শিশু কারা? জাতিসংঘের মতে,যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে সাধারণত তাদের শিশু বলা হয়। যে বয়সে বই নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, পেন্সিল দিয়ে ছঁবি আঁকার কথা। সেই বয়সে বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিশুরা হাতে নিচ্ছে ভিক্ষার থলি, ট্রেনিং নিচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তির। বলছিলাম রাজধানীর ভিক্ষাবৃত্তিতে ছোট ছোট শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতির কথা। ৫-১৫ বছরের ছেলে-মেয়েরা পুরু রাজধানী জুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছে। ভিক্ষাকে জীবিকা নির্বাহের বাহন হিসেবে তারা গ্রহন করছে।
এদের মধ্যে বেশিরভাগ ছেলে-মেয়েদের দেখা যায়, যাদের মা/বাবা নেই। অনেক ক্ষেত্রে মা-বাবা উভয়ই নেই অথবা মা-বাবা তাদের ভরণপোষণ করতে পারছেনা তারাই জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষাবৃত্তি নামক পেশা বেছে নিচ্ছে ।যাদের মা-বাবা উভয় নেই/মা-বাবা ভরণপোষণ করেনা তারা জীবিকা নির্বাহ করে কোনো এক অপরিচিত অভিভাকের নিয়ন্ত্রণে। এই অভিভাবকরা তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তির ট্রেনিং দিয়ে থাকেন।
কিভাবে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা যায় সেইভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিনিময়ে তাদের শুধু জীবিকা নির্বাহের জন্য খাবার, থাকার ব্যবস্থা দেওয়া হয় কোনো নোংরা পরিবেশে। প্রশিক্ষণকারীরা আয়কৃত টাকা গুলো হাতিয়ে নিয়ে দিন দিন তাদের অবৈধ টকার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করছে। যাত্রাবাড়ী, নিউ মার্কেট, ফকিরাপুল, গুলশান, ধানমন্ডি সহ ঢাকার সকল জায়গায় বের হলেই এই ক্ষুদে ভিক্ষুকদের চোখে পরে আমাদের প্রতিনিয়ত। টাকা না দিয়ে তাদের বিদায় করে দেওয়া যেন অসম্ভব হয়ে পরে। প্রসঙ্গক্রমে, কয়েকজন ক্ষুদে ভিক্ষুকের কাছ থেকে কৌশলে তাদের ভিক্ষাবৃত্তির ট্রেনিং সম্পর্কে জানতে পারি। তাদের কথা অনুসারে ১০/১৫ জনের ক্ষুদে ভিক্ষুকের একটা টিম থাকে এবং এই টিমের দায়িত্বে থাকেন একজন মধ্যবয়সী/বৃদ্ধবয়সি একজন প্রশিক্ষক। তারা এই ক্ষুদে ভিক্ষুকদের ট্রেনিং দেন, কিভাবে মানুষের কাছে টাকা চাইতে হবে। মহিলা হলে কিভাবে চাইতে হবে, পুরুষ হলে কিভাবে, গাড়িতে কিভাবে, পার্কে কিভাবে অর্থাৎ কোন জায়গায়/কার কাছে কিভাবে চাইতে হবে সেই মুতাবেক ট্রেনিং দেওয়া হয়। অনেকক্ষেত্রে ট্রেনিং প্রদানের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিবন্ধী সাজিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করিয়ে ফায়দা লুটা হয়। সেই অনুসারে তারা তাদের ভিক্ষাবৃত্তি চালিয়ে যায়। অনেকক্ষেত্রে নিজের মা-বাবাও প্রশিক্ষকের ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে শুধু রাজধানী নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা অঞ্চলে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এটা বর্তমান সময়ে একটি বিরাট সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনিসেফের মতে, বর্তমান বাংলাদেশের গরীব, এতিম, গৃহহারা শিশুরা যেভাবে এই সামাজিক ব্যাধির দিকে হাত বাড়াচ্ছে, সামাজিক অপরাধ তৈরিতে এর মারাত্মক প্রভাব পরবে। তাছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ না হয়ে শিশুরা দেশের অভিশাপ হিসেবে গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশের জন্য এর ফলাফল হবে ভয়াবহ।
উল্লেখ্য, শিশু আইন ২০১৩ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন বা কোনো শিশুর দ্বারা ভিক্ষা করান অথবা শিশুর হেফাজত, তত্ত্বাবধান বা দেখাশোনায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগদানে প্রশ্রয়দান বা প্রদান করেন, তাহলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ অপরাধের জন্য ওই ব্যক্তি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ