বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটে দেশের ৩য় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা, চালু হচ্ছে সীমিত জনবল নিয়ে  » «   ছাত্রলীগকর্মী তানিম হত্যা : আসামী ডায়মন্ড ও রুহেল ৫ দিনের রিমান্ডে  » «   জামেয়া গহরপুর মাদ্রাসার ৬১ তম বার্ষিক মাহফিল আজ  » «   সিলেটে অস্ত্রসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   কার্ডিফের মতো সিলেট গড়তে চাই : মেয়র আরিফ  » «   সুনামগঞ্জে বোরো আবাদ : কৃষকদের চরম হতাশা, লক্ষ্যমাত্রা সোয়া ২ লাখ হেক্টর জমি  » «   সিলেটে পাথর কোয়ারীতে অভিযান : ১৫টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস  » «   সিলেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ওসমানী স্মৃতি পরিষদের শীতবস্ত্র বিতরণ  » «   ওসমানীনগরে ইলিয়াস আলীর জন্য বিএনপি নেতা ফারুকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ  » «  

সামনে বৈরাগী বাজার (দুই)

ময়নূর রহমান বাবুল:মাটির কুপিবাতি হয়। কুমার মাটি দিয়ে হাড়ি পাতিলের মতো এই ছোট্ট আকৃতির কুপিবাতিটাও তৈরী করে। কাঁচের বোতল দিয়ে কিংবা কাঁচা টিন দিয়েও মশাল আকৃতির বুন্দা বাতি অথবা পিতলেরও কুপিবাতি তৈরী হয়। এক টুকরা পুরানো কাপড়কে প্যাঁচিয়ে প্যাঁচিয়ে এতে দেয়া হয় সলতে। পুরনো ছেড়া গেঞ্জী জাতীয় কাপড়ের সলতা অধিক ভালো। পাটের সলতাও দেয়া যায়। কুপির ভিতরে ঢালা হয় কেরোসিন। তাও আবার দুই প্রকার। লাল কেরোসিন গরীবদের জন্য এবং প্রকৃতই কুপিবাতিতে ব্যবহারের জন্য। লাল তো গরীব শ্রেণীর আপন রঙও। আর সাদা কেরোসিন অপেক্ষাকৃত স্বচ্চল পরিবারের জন্য, যা সচরাচর কুপি বাতির চেয়ে হারিকেন লন্টনেই ব্যবহৃত হয় বেশী। খুব সাশ্রয়ী হলেও কুপি বাতিতে লাল কেরোসিন পুড়ানোতে কিছু বিড়ম্বনা আছে। কিছুক্ষন জ্বলার পরই সলতার মাথায় আগুনের শিখায় ছাই ধরে শিখা ম্লান হয়ে আসে। তখন ছাইগুলো ঝেড়ে ফেলে দিতে হয়। আলো আবার আপন মহিমায় ঝ¦লে উঠে। কুপি বাতি জ্বলবে কেবল যতক্ষন প্রয়োজন ঠিক ততক্ষনই। এর একটু বেশী নয়। তেলের স্বাশ্রয় এর প্রধান কারন। প্রয়োজন শেষে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতে হয়। আরেকটি কারনও একেবারে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তা হলো কুপি বাতির আলোয় আর তেল পুড়তে পুড়তে বাতির শিখা থেকে ঘন কালো কাজল তৈরী হয়। ঘরের ভিতর, কাপড় চোপড় ইত্যাদিতে তা পরম আদরে লেপ্টে থাকে।শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে নাকের দু’সুড়ঙ্গে জমা হয়ে থাকে। শীতের দিনে বাঁচ্চাদের নাক বেয়ে ঘি রঙের পরিবর্তে ছাই রঙের শর্দি পদ্মা মেঘনার ধারায় প্রবাহিত হয়। ঘরের সম্পদ কাঁথা বালিশে সে রঙ সংক্রামিত হয়। জীবনের ঝড়ের ঝাপটা যেমন গরীব মানুষের জীবনকে ল–ভ- করে দেয়। এলো মেলো বাতাসের ঝাপটা সে রকম কুপি বাতিকেও নিভু নিভু করে দেয়। কখনো নিভিয়েও দেয়। সলতা কুপির বোতলের নিচের অংশ থেকেও ধীরে ধীরে টেনে আনে আগুনের মুখে তুলে দেয় কেরোসিন তেল।আগুন তা তার স্বভাব সুলভ পুড়ায় – খায় – ভষ্ম করে। যেমন শোষক তার কৌশল খাটিয়ে আপন নিয়মে শোষন করে গরীবের ধন। দু’ভাগা, তেভাগা আর বর্গাতে, কলি কালের কৃষি ঋনের চক্রবৃদ্ধিতে যেভাবে ধনী আরো ধনী হয় গরীবের রক্ত শোষন করে নিয়ে।

কুপিবাতির আলোয় গরীবের ঘর আলোকিত হয়। বাচ্ছারা সন্ধ্যা প্রহর কাটায়। মেয়েরা তরকারী কুঁটে, চালের কঙ্কর খোঁজে।পুরুষরা ধান মাড়ায়। দঁড়ি প্যাঁচায়। টং দোকানের মালিক দোকানের মধ্যিখানে বাঁশের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে কুপিবাতি। মাঝে মাঝে সলতে ঝেড়ে দেয়। বৈরাগী বাজারের ছোট ছোট সব দোকানগুলোতে একটা একটা কুপিবাতি জ্বলে। এতো দিন মাস আর বছর যায়। দুনিয়ায় কতো কিছু হয়। দুরের মানুষ কাছে এসে কথা কয়। সুরুজ নিভে গেলেও দুনিয়া ফকফকা আলোতে জ্বল জ্বল করে। কিন্তু বৈরাগী বাজারে কুপিবাতিই শোভা পায় এখনো। এখানে লক্কর-ঝক্কর মুড়িরটিন বাস, উতাল-পাতাল ঢেউখেলা ভাঙ্গা রাস্তা ছাড়া আর কোন বিজ্ঞান পৌঁছেনা। এখানে কুইক রেন্টাল রামপালের গন্ধও গিয়ে লাগেনা। অতএব  কুপিবাতির মৃদু আলোয় এ গলি থেকে ও গলি, এ দোকান থেকে ও দোকান ঘুরে বেড়ায় ফুলবানু। জং ধরা আর ঝড়ে হেলে পড়া টিনের একখানা সাইনবোর্ডে যেখানে লিখা আছে ‘‘সামনে বৈরাগী বাজার’’ সেখান থেকে একটু সামনে এসেই সে আজ নেমেছিলো মুড়ির টিন বাস থেকে। ফুলবানু জেনেছে যে মনু এ বাজারেই এসেছে গত ক’মাস ধরে। মনুর বাবা মা এ বাজারেরই আশে পাশে কোন গলিতে একটা একচালা কুঁড়েঘরে থাকেন। কুপিবাতির আলোয় আজ সে খুঁজে নেবে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত সারা বৈরাগী বাজার…

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ