বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটে দেশের ৩য় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা, চালু হচ্ছে সীমিত জনবল নিয়ে  » «   ছাত্রলীগকর্মী তানিম হত্যা : আসামী ডায়মন্ড ও রুহেল ৫ দিনের রিমান্ডে  » «   জামেয়া গহরপুর মাদ্রাসার ৬১ তম বার্ষিক মাহফিল আজ  » «   সিলেটে অস্ত্রসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার  » «   কার্ডিফের মতো সিলেট গড়তে চাই : মেয়র আরিফ  » «   সুনামগঞ্জে বোরো আবাদ : কৃষকদের চরম হতাশা, লক্ষ্যমাত্রা সোয়া ২ লাখ হেক্টর জমি  » «   সিলেটে পাথর কোয়ারীতে অভিযান : ১৫টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস  » «   সিলেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ওসমানী স্মৃতি পরিষদের শীতবস্ত্র বিতরণ  » «   ওসমানীনগরে ইলিয়াস আলীর জন্য বিএনপি নেতা ফারুকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ  » «  

কার হউকদা খাও গো বান্দি, ঠাকুর চিন না!

সুহেল আহমেদ চৌধুরী:পদ বিহীন ব্যক্তি এবং পদ ধারী ব্যক্তি একই নাম একই স্বত্বা হলেও পার্থক্য বিস্তর। কারণ, রাষ্ট্র, প্রশাসন, সমাজ সর্বোপরি সাধারণ মানুষ ব্যক্তির তুলনায় পদ-কে সমীহ করে বেশী। সেটিই স্বাভাবিক কেননা পদ ধারী ব্যক্তি ছাড়া প্রজাতন্ত্রের সিদ্ধান্ত তথা স্বাক্ষরের অধিকার নেই। তাই বিশেষণে বিশেষায়িত ব্যক্তি এবং বিশেষণ মুক্ত ব্যক্তি এক কথা নয়! আপনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদে থেকে যখন কোন স্বাক্ষর দেন তখন এদেশের ১৬ মানুষের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এই হিসাব রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে একজন ইউ/পি সদস্য পর্যন্ত প্রযোজ্য। কারণ প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের পক্ষে কথা বলেন স্বাক্ষর করেন। যখন কোন ইউনিটের জনপ্রতিনিধি কোন সুনাম বয়ে নিয়ে আসেন তখন নির্বাচনী এলাকার আপামর জনতা সুনামের অংশীদার হয়ে হয়ে যায়। অনুরূপ অবস্থা দুর্নামের ক্ষেত্রে। ফেনী এবং নারায়ণগঞ্জ দু’টি এলাকার নাম উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে দু’জন জনপ্রতিনিধির নাম আসবে যারা সত্যি এমন সব বিশেষণে বিশেষায়িত যার জন্য নির্বাচনী এলাকার মানুষ ব্যাঙ্গ বিদ্রূপের স্বীকার হয়!!

আমার জন্ম ভিটাটি যে আসনে পড়েছে সেটি তিন উপজেলায় গঠিত। শ্রদ্ধেয় বঙ্গবীর জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী ( বর্তমান সরকারের ভাষায় প্রধান সেনাপতি) সমান আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গণমাধ্যমে কাজের সুবাদে বেশ কয়েক জন সংসদ সদস্য কে কাছে থেকে দেখেছি। তাদের উন্নয়ন, বাকপটুতা, জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান, আয় রোজগার, আচার ব্যবহার সর্বোপরি ব্যক্তি বিশেষের প্রতি ভাষা প্রয়োগের রীতি দেখার তিক্ত অভিজ্ঞতায় আমার ঝুলি সমৃদ্ধ বললে অত্যুক্তি হবে না।  তারা এখন পদে নেই তাই তাদের অতীত  বলার অবকাশ দেখছি না।

একটি জাতীয় দৈনিক পর পর তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশ করল জেনারেল ওসমানীর স্মৃতি ধন্য আসনের সংসদ সদস্য সম্পর্কে। প্রতিবেদনে তাঁর কতিপয় কাজের এখতিয়ার নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলা হয়েছে, তেমনি কালো টাকা উপার্জনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের “তুই তুকার” করে এই সাংসদ বক্তব্যও দিয়েছেন।
হে জনপ্রতিনিধি আপনি স্পিকারের কাছে  শপথ বাক্য পাঠ করে, যে চেয়ারে আসীন একই সময়ে একই আসনে আর কোন দ্বিতীয় ব্যক্তি নেই শপথ বাক্য পড়ে মর্যাদার এই চেয়ারে বসেছেন। ব্যক্তি আপনি এবং জনপ্রতিনিধি আপনি সমান কথা নয় হে জনপ্রতিনিধি। আপনি যখন সংসদে আমাদের আমাদের কোন দাবী তুলেন তখন এই আসনের মানুষের হৃদয়ে দলমত নির্বিশেষে একাকার হয়ে যান। যখন আপনি কালো টাকা উপার্জনের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত হন তখন পকারান্তরে  প্রতিটি মানুষ দুর্নামের ভাগীদার হয়ে যান। কেননা আপনি এই আসনে জনপ্রতিনিধি। যদিও আপনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর ভাষায় নিয়ম রক্ষার নির্বাচনে নির্বাচিত!! তবুও এখন আপনি প্রতিনিধিত্ব করেন এই আসনের।

আচ্ছা মাননীয় সাংসদ রুটিন ওয়ার্ক হিসাবে যে সমস্ত রাস্তা এক কিলোমিটার, অর্ধ কিলোমিটার পাকাকরণ হচ্ছে সেখানে রাস্তা পাকাকরণের জন্য যে টাকা আদায় হয় এগুলো কে হস্তগত করেন? আপনিও তো অনাবাসী বাংলাদেশী, শুনেছি গাড়ীর ব্যবসা করেন এভাবে টাকার পাহাড় গড়ার অভিপ্রায় নিশ্চয় আপনার থাকার কথা নয়; মাননীয় সাংসদ প্রত্যেক রাস্তা থেকে আপনার নামে যে টাকা উঠে এর কোন খবর কি আপনার কান পর্যন্ত পৌছায় না?

সংসদ সদস্যদের অনেক কিছুর কালের সাক্ষী হলেও বর্তমান অভিজ্ঞতা অতীতে হয়নি। প্রত্যেক প্রজেক্টে উর্পাজনে সাংসদের অংশ গ্রহণের অভিযোগ আমার অভিজ্ঞতায় নতুন সংযুক্তি। জনপ্রতিনিধি হলে কতিপয়ের চামড়া হয়ত শক্ত হয়ে যায় কিন্তু সাধারণ মানুষ হিসাবে আমাদের চামড়া এখনও পাতলা রয়ে গেছে, তাই আমাদের চামড়ায় তকমা গুলো বিধে ।

সাংসদ হলে মুখের ভাষা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া এ আর নতুন কিছু নয়। শাহ, আলী, রহমান, চৌধুরী সবাই কে দেখেছি মসনদে বসতে বসতে না বসতে তখত কে বাপ-দাদার সম্পদ ভাবেন, আর ভোটারদের ভাবেন রায়ত।  সিলেটের  একটি আঞ্চলিক প্রবাদটি আছে , সেটি হল কার হউকদা খাও গো বান্দি, ঠাকুর চিন না! আমার  মনে হয় এ ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশী প্রযোজ্য।

আপনি হয়ত ভাবছেন এটি শেষ নির্বাচন তাই মরণ কামড় দিচ্ছেন।  শুনেছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নাকি বাধ পড়েনি এই কামড় থেকে। রাষ্ট্রের সবচেয়ে নিকৃষ্ট আমলাও এমন উন্মুক্ত আখের ঘোচানোর আয়োজন করে না। অথচ অলি আউলিয়ার এই অঞ্চলের  জনপ্রতিনিধি এমন সব অভিযোগে অভিযুক্ত, যার জন্য ভোটারদের মুখ লোকাতে হয়।

যে জাতীয় দৈনিকে তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, আমরা এখন পর্যন্ত এর প্রতিবাদ দেখিনি । এর মানে কি অভিযোগে সত্যতা রয়েছে মাননীয় সাংসদ!?

(সুরমানিউজ এর পাঠককলামে প্রকাশিত সব লেখা পাঠক কিংবা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় সুরমানিউজ বহন করবে না। সুরমানিউজ এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।)

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

সর্বশেষ সংবাদ